আমাদের সম্পর্কে

আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন

আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, দাওয়াহ, মানবসেবা ও সামাজিক কল্যাণে নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সরকার-নিবন্ধিত জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এর নিবন্ধন নম্বর: এস-১৫০৪৭/২০২৬

২০২৫ সালে হাফেজ মোঃ মশিউর রহমান আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফাউন্ডেশনটি শিক্ষা, দাওয়াহ, মানবিক সহায়তা, দারিদ্র্য বিমোচন, এতিম ও অসহায় মানুষের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, আত্মনির্ভর ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে কাজ করে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আমানতদারিতা, পেশাদারিত্ব এবং সেবার উৎকর্ষকে প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ হিসেবে ধারণ করে আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবকল্যাণে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুমোদনসমূহ

নিবন্ধন সনদ

নীতি ও আদর্শ

আমাদের অঙ্গীকার

মানবসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দাওয়াহ কার্যক্রম ও স্বচ্ছতার সমন্বয়ে এমন একটি সমাজ গঠনে কাজ করা—যেখানে মানুষ সম্মান, সক্ষমতা ও কল্যাণের সাথে এগিয়ে যেতে পারে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

মানবসেবা  ⏐  শিক্ষা  ⏐  দাওয়াহ
"আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন" কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবকল্যাণ, শিক্ষা ও দাওয়াহকে সমন্বিত করে একটি নৈতিক, আত্মনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিম্নোক্ত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে পরিচালিত হয়।
মানবসেবা
শিক্ষা
দাওয়াহ

মানবসেবা

মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে—
দরিদ্র, অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ, মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।
এতিম, বিধবা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিজমসম্পন্ন শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কল্যাণ ও সহায়তা প্রদান।
জীবিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীকরণ।
স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃ ও শিশু কল্যাণ, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) উন্নয়ন।
রমজানে ইফতার, 'সবার জন্য কুরবানি', শীতবস্ত্র বিতরণ এবং অন্যান্য মৌসুমি ও বিশেষ মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন।

শিক্ষা

জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে একটি শিক্ষিত, আত্মনির্ভর ও সক্ষম সমাজ গঠনে—
কুরআন ও সুন্নাহর মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা।
অসচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, টিউশন সহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষাসহায়তা প্রদান।
শিক্ষক, প্রশিক্ষক, গবেষক ও অন্যান্য মানবসম্পদের জন্য কারিগরি, পেশাগত, উদ্যোক্তা ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
গবেষণা, প্রকাশনা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

দাওয়াহ

কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞান, নৈতিক মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্র বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনে—
কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ এবং নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
ধর্মীয় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা ও দ্বীনি সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল জীবনাচার প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ প্রদান।
দা'য়ী, ইসলামিক শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই দাওয়াহ, ইসলামী শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন।
ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বা সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।

আমাদের অঙ্গীকার

মানবসেবা, শিক্ষা ও দাওয়াহ—এই তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আল-বারাকাহ ফাউন্ডেশন কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আমানতদারিতার সঙ্গে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আয়–ব্যয়ের নীতিমালা

স্বচ্ছতা, আমানতদারিতা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিটি অনুদান।
আয়ের উৎস
সেবামূলক ব্যয়
ব্যবস্থাপনা ব্যয়

আয়ের উৎসসমূহ

ফাউন্ডেশনের আয়ের উৎস নিম্নরূপ—
সদস্য ফি, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বেচ্ছা যাকাত, সদকা, সদকায়ে জারিয়াহ, ওয়াক্‌ফ, শরয়ী দান ও অনুদান।
দেশি-বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, ট্রাস্ট, করপোরেট প্রতিষ্ঠান (CSR) এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদান ও আর্থিক সহায়তা।
কর্মসূচিভিত্তিক তহবিল, গবেষণা অনুদান এবং বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রকল্প সহায়তা।
ফাউন্ডেশনের পরিচালিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, প্রকাশনা, সামাজিক উদ্যোগ, সেবা ও অন্যান্য বৈধ আয়বর্ধক কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়।
আইনসম্মত বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার এবং অন্যান্য বৈধ আর্থিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়।
বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন, ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র এবং শরিয়াহর নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

সেবামূলক ব্যয়ের খাত

জনকল্যাণমূলক ও শরয়ী প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয় পূর্ণ জবাবদিহিতা—
সকল অনুদান শরয়ী নীতিমালা ও দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যয় করা হয়।
দাতার নির্ধারিত খাতের অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার করা হয়।
যাকাত তহবিলের অর্থ শতভাগ হকদারদের জন্য ব্যয় করা হয়।
প্রতিটি প্রকল্পের আয়–ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।
নির্ধারিত সময় অন্তর অডিট ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

ব্যবস্থাপনা, অফিস পরিচালনা ও দাপ্তরিক ব্যয়

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত ব্যয় বহন করা হয়। যেমন—
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা ব্যয়।
প্রকল্প তদারকি, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সহায়তা ব্যয়।
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত সীমার মধ্যে পরিচালন ব্যয়।
কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট জনবলের পারিশ্রমিক, ভাতা প্রদান বাবদ ব্যয়।
হিসাবরক্ষণ, অডিট ও আইনি ব্যয়।
প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও যোগাযোগ ব্যয়।
প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন ব্যয়।

কেন ব্যবস্থাপনা ব্যয় প্রয়োজন:

প্রকল্প সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে।
স্বচ্ছ হিসাব ও প্রতিবেদন সংরক্ষণে।
দক্ষ জনবল ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে।
দাতাদের আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বজায় রাখতে।